July 26, 2025

✊ ইনকিলাব জিন্দাবাদ: একটি বিপ্লবী স্লোগানের ইতিহাস ও তাৎপর্য।

 "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" — উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি সবচেয়ে পরিচিত ও আবেগঘন স্লোগান। যার অর্থ, “বিপ্লব চিরজীবী হোক”। এটি শুধু একটি বাক্য নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা শোষণবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক।

🔍 স্লোগানটির উৎপত্তি

এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয় ১৯২১ সালে, ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ব্যতিক্রমী নেতা ও উর্দু কবি মাওলানা হসরত মোহানী-এর হাত ধরে। হসরত মোহানী ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা মুসলিম, যিনি ইসলাম ও সমাজতন্ত্র—উভয় আদর্শের সমন্বয়ে স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতেন।

তবে এই স্লোগানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় যখন বিপ্লবী ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করেন এবং উচ্চারণ করেন, 🗣️ "ইনকিলাব জিন্দাবাদ!"

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল কাউকে হত্যা করা নয়, বরং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা এবং জনগণকে জাগিয়ে তোলা — "To make the deaf hear", এটাই ছিল তাঁদের মূল বক্তব্য।

🟥 বামপন্থীদের সাথে সম্পর্ক

"ইনকিলাব" মানেই বিপ্লব, আর বিপ্লব মানেই শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন — যা বাম রাজনীতির মূল দর্শন।

ভগৎ সিং নিজে ছিলেন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী (Socialist Revolutionary) এবং তাঁর সংগঠন HSRA (Hindustan Socialist Republican Association)—এর আদর্শ ছিল সাম্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শ্রেণিহীন সমাজ।

এ কারণে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বামপন্থী রাজনীতির মূল স্লোগান।

বাংলাদেশে বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো আজও এই স্লোগান ব্যবহার করে থাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান হিসেবে।

🇧🇩 বাংলাদেশে ব্যবহার ও প্রাসঙ্গিকতা

"ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-এর সময় থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, এমনকি সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলন পর্যন্ত—বিভিন্ন সময়েই উচ্চারিত হয়েছে।

এটি একটি সর্বজনীন প্রতীক, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনো বামপন্থী চেতনার প্রতিফলন, আবার কখনো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দাবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

🔥 স্লোগানটি কি শুধুই বামপন্থীদের?

না। যদিও বামপন্থীরা এই স্লোগানটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে, তবে এটি জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক এমনকি কিছু ইসলামপন্থী দলের মধ্যেও ব্যবহৃত হয়েছে, বিশেষত যখন তারা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে।

🏁 উপসংহার

"ইনকিলাব জিন্দাবাদ" শুধু একটি স্লোগান নয়—এটি একটি চেতনা, একটি প্রতিবাদের ভাষা, একটি মুক্তির ডাক। বামপন্থী হোক বা জাতীয়তাবাদী—যে কেউ যেকোনো সময় এই স্লোগানটি ব্যবহার করতে পারে শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবে।

আজও যখন কেউ বলে "ইনকিলাব জিন্দাবাদ", তখন তা কেবল অতীত নয়, বরং ভবিষ্যতের এক সাহসী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।

📚 রেফারেন্স:

1. Wikipedia – Inquilab Zindabad

2. Wikipedia – Hasrat Mohani

3. The Wire – Hasrat Mohani: A Communist, a Muslim, and a Patriot

4. New Age BD – Inquilab Zindabad: A Timeless Call for Revolution



July 12, 2025

মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে হত্যা: একটি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব না অপরাধ জগতের প্রতিচ্ছবি?

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র, পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের সড়ক যেন এক নিমিষেই রূপ নিয়েছিল নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের মঞ্চে। ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা হলেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে—এই হত্যাকাণ্ড কি কেবলই একটি ব্যক্তিগত শত্রুতার পরিণতি, নাকি এটি বৃহৎ কোন অপরাধ চক্রের অংশ?

 ঘটনার পটভূমি ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাকা রাস্তায় একদল দুর্বৃত্ত সোহাগকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের হাতে ছিল ইট, পাথর, রড, ধারালো অস্ত্র—যা থেকে বোঝা যায় হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর।ঘটনার পরপরই কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যৌথবাহিনীর অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিন (২২) গ্রেফতার হন। রবিনের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি বিদেশি পিস্তল—যা এই হত্যাকাণ্ডের মাত্রা ও পরিকল্পনার গভীরতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, র‍্যাব আরও দুজনকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান: ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব না গ্যাং কালচার?

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতা। তবে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, বিষয়টি কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। সোহাগ ছিলেন পুরান ঢাকার ভাঙাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যেখানে প্রতিযোগিতা, অবৈধ দখল ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিরোধ চলে আসছে। সোহাগ কি এই ব্যবস্থার কোন বড় খেলোয়াড় ছিলেন? নাকি তিনি ছিলেন কেবলই বড় কারও সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী?

ভিডিও ভাইরাল: সামাজিক আলোড়ন ও প্রশ্ন

এই ঘটনার একটি নির্মম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তার মরদেহের ওপরও চলে বর্বরতা। এই ভিডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, “এখন রাজধানীর মাঝখানে, হাসপাতালের গেটের সামনে যদি একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করা যায়, তাহলে আমরা নিরাপদ কোথায়?”

আইনের শাসন ও রাষ্ট্রের কর্তব্য

এই ঘটনার মাধ্যমে উঠে আসে বড় এক প্রশ্ন—রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? প্রকাশ্যে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র উদ্ধার, ভিডিও ভাইরাল—সব মিলিয়ে এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দৃষ্টান্তও বলা যেতে পারে। এই মামলার তদন্তে যদি গাফিলতি দেখা যায়, কিংবা মূল হোতারা রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়—তবে এটি ভবিষ্যতে আরও ভয়ঙ্কর নজির তৈরি করবে।

আমার শেষ কথা হলো বিচার না হলে বার্তা যাবে অপরাধীর পক্ষে। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি আমাদের সমাজব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। দ্রুত তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি, এবং ব্যবসায়িক ও গ্যাংভিত্তিক অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া জরুরি।

লেখক: ডাঃ মনসুর রহমান (গবেষক ও সোশ্যাল এক্টিভিস্ট)

July 09, 2025

এই পৃথিবী – জীবনের আশ্চর্য আবাস | পৃথিবীর উৎপত্তি ও বৈচিত্র্য |

এই পৃথিবী—যেখানে আমরা বেঁচে আছি, বেড়ে উঠি, স্বপ্ন দেখি—তা যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক বিশাল ক্যানভাস।এখানে রয়েছে তুষারে মোড়া বিশাল পর্বতমালা, কখনো আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, কখনো বা পৃথিবীর ভূত্বকে গভীর শক্তির সংঘাতে জন্ম নেয়া এই পাহাড়গুলো যেন সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে নির্ভীকভাবে।

এখানে রয়েছে দিগন্তজোড়া সবুজ সমতল ভূমি,যা চাষাবাদ, নগর গঠন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছুর ভিত্তি । রয়েছে ছুটে চলা হাজারো নদ-নদী, গঙ্গা, যমুনা, আমাজন, নাইল — এরা কৃষির জন্ম দিয়েছে, সমাজ গড়েছে, আবার ইতিহাসের মোড়ও ঘুরিয়েছে। প্রতিটি নদীই যেন একেকটি সভ্যতার সূতিকাগার।

মরুভূমি ধুলো আর তপ্ত বালির রাজত্ব হলেও, এখানেও টিকে থাকার এক কঠিন ও কল্পনাতীত কাহিনি রচিত হয় প্রতিনিয়ত।

পৃথিবীর বৈচিত্র্য সত্যিই বিস্ময়কর। একদিকে বরফাবৃত ভূমি, অন্যদিকে জ্বলন্ত মরুভূমি। কোথাও অরণ্যের সবুজ ছায়া, কোথাও তৃণভূমির অসীম বিস্তার। কোথাও পানির প্রাচুর্য, আবার কোথাও একফোঁটা পানযোগ্য পানি্র জন্য হাহাকার। শুষ্ক পাহাড়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন, বরফাবৃত শিখর—সব মিলেই গড়ে উঠেছে আমাদের এই অনন্য গ্রহ, এই প্রাণের ঠিকানা—পৃথিবী। 

আকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে মনে হয়, এ এক জ্যোতির্ময় রত্ন—নীল আর সবুজে ঘেরা এক সুন্দর গ্রহ। এই গ্রহটি আমাদের সৌরজগতের তৃতীয় সদস্য, এবং এ পর্যন্ত জানা একমাত্র স্থান, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 

পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় তৈরি করে দিন ও রাত। এই অবিরাম ঘূর্ণনেই গড়ে ওঠে আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনের শুরু ও শেষ। আর সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী যখন একবার ঘুরে আসে, সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন। আর তাতেই গড়ে ওঠে আমাদের একটি বছর।

পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫ ডিগ্রি হেলানো বলে আসে ঋতুর রঙিন বৈচিত্র্য কখনো হিমেল শীত, কখনো ঝলমলে গ্রীষ্ম, আর কখনো বর্ষার ঝিরিঝিরি ভালোবাসা। 

এই পৃথিবীর সবচেয়ে মহামূল্য সম্পদ হলো এর প্রাণদায়ী বায়ুমণ্ডল। অক্সিজেনে পরিপূর্ণ এই বাতাস আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, প্রতিটি শ্বাসে এনে দেয় জীবন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়...

  • এই পৃথিবী কি শুরু থেকেই এত সুন্দর ছিল? 
  • এর জন্ম কবে এবং কীভাবে হয়েছিল? 
  • মানবজাতি কি তখনই ছিল? নাকি এসেছিল হাজার হাজার বছর পরে?
  • প্রথম কোন জীব পৃথিবীতে এসেছিল?
  • আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — জীবনের জন্ম কি এক প্রস্তুত মঞ্চে হয়েছিল, যেখানে বাতাস, পানি, তাপ ও উপাদান সবই অপেক্ষায় ছিল? নাকি জীবন নিজেই ধীরে ধীরে গড়েছে তার চারপাশের পরিবেশ?

এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গহ্বরে...মহাবিশ্বের সেই আদি মুহূর্তে যেখানে কিছুই ছিল না। না আলো, না শব্দ, না সময়, না স্থান। তারপর... এক বিস্ফোরণ। না, কোনো ধ্বংসের নয় বরং এক সৃষ্টি, এক শুভারম্ভ। যাকে আমরা বলি  ‘আদি বিস্ফোরণ’ বা Big Bang

শুরুর সেই মুহূর্তে না ছিল কোনো স্থান, না সময়, না তারা, না গ্যালাক্সি, না পৃথিবী, এমনকি চাঁদের মতো কোনো উপগ্রহও। সবকিছু ছিল সীমাবদ্ধ এক অতিক্ষুদ্র বিন্দুর ভেতরে যা ছিল একটি পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র। কিন্তু হঠাৎ করেই, অজানা এক কারণে, সেই বিন্দুটি প্রসারিত হতে শুরু করল...আর মাত্র কিছু মুহূর্তের মধ্যেই ঘটল ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ও বিশাল এক বিস্ফোরণ বা Big Bang

যেখানে আগে কিছুই ছিল না, সেখানে এখন ঘুরে বেড়াতে লাগল হাইড্রোজেন গ্যাসের মেঘ। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল শক্তি ও সম্ভাবনা।

এই বিস্ফোরণের পরপরই ঘটে এক দ্রুতগতির সম্প্রসারণ—যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ইনফ্লেশন। মুহূর্তের মধ্যে মহাবিশ্ব হয়ে উঠল বিশাল ও ভারী। তাপমাত্রা তখন ছিল অত্যন্ত উচ্চ কল্পনার বাইরে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচণ্ড তাপ ধীরে ধীরে কমে আসতে লাগল। আর তখনই, এই বিশাল শক্তির মধ্যে জন্ম নিল এক নতুন শক্তি—মহাকর্ষ, বা গ্র্যাভিটি। 

এই গ্র্যাভিটির কারণেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কণাগুলো একত্র হতে লাগল। আর এই একত্রীকরণের মাধ্যমেই গঠিত হলো প্রথম পরমাণু—হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন যখন একত্র হয়ে তার ভর বাড়াতে লাগল,তখন গ্র্যাভিটির প্রভাবে তা রূপ নিতে থাকল হিলিয়াম-এ। আর এই রূপান্তরই ছিল তারাদের জন্মের প্রথম ধাপ।

ধীরে ধীরে, মহাকর্ষের অদৃশ্য টানে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা কণাগুলো একে একে টানতে শুরু করে একে অপরকে। এই টানের ফলে গঠিত হয় এক বিশাল গ্যাসীয় মেঘ, যেখানে জড়ো হতে থাকে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পরমাণু। 

এই কেন্দ্রে ক্রমাগত চাপ ও তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, এবং এক সময় শুরু হয় একটি মহাজাগতিক বিপ্লবনিউক্লিয়ার ফিউশন। 

হাইড্রোজেন পরমাণু একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে তৈরি করতে থাকে হিলিয়াম—এই ফিউশন থেকে জন্ম নেয় প্রবল শক্তি ও আলো। এভাবেই সৃষ্টি হয় প্রথম তারা—এক উজ্জ্বল দীপ্তি, যা ছড়িয়ে দেয় আলো মহাশূন্যের অন্ধকারে।

এইভাবে মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে গঠিত হতে থাকে অগণিত তারা... এই তারাগুলোর ভেতর মহাকর্ষের আকর্ষণে ছোট তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে..তারা একত্রে তৈরি করে এক বিশাল দল, যাকে আমরা বলি আকাশগঙ্গা বা গ্যালাক্সি। এভাবে প্রতিটি গ্যালাক্সি হয়ে ওঠে কোটি কোটি তারার এক মহাজাগতিক পরিবার। যেগুলো একে অপরের চারপাশে ঘুরছে, ছুটে চলছে মহাকর্ষের অনন্ত ছন্দে।

এই গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে একটি হলো মিল্কিওয়ে (Milky Way), যেখানে আমাদের সূর্যের জন্ম হয়। সূর্য ছিল একটি বড় এবং শক্তিশালী গ্র্যাভিটি বিশিষ্ট তারা। এর চারপাশে ঘুরছিল ধুলা, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম কণাগুলি। এই কণাগুলোর তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে।

যখন এই কণাগুলোর তাপমাত্রা কমতে থাকে, তখন গ্র্যাভিটির প্রভাবে তারা একে অপরের কাছাকাছি আসতে থাকে। এই ধূলিকণা ও গ্যাস একত্রে জড়ো হয়ে গঠন করে গ্যাসীয় বৃহৎ বলয় বা মেঘ। এই মেঘগুলো ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে পৃথিবীর মতো গ্রহের প্রাথমিক রূপ তৈরি করে। এই ধরণের গ্যাস এবং ধূলিকণার মিশ্রণ একসময় শক্ত পৃষ্ঠ (solid crust) গঠনের দিকে এগোয়।

যদিও তখনও একে আমাদের বর্তমান পৃথিবী বলা যেত না, কারণ এর আকার ছিল বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি, এবং এটি সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণন করছিল।  এই শুরুতে পৃথিবীর অবস্থা ছিল অনেকটা আজকের শুক্র গ্রহের (Venus) মতো, যেখানে টানা বৃষ্টি হতো এবং কোনো স্থিরতা ছিল না। কেউ কল্পনাও করতে পারত না, এই বিক্ষিপ্ত গরম পিণ্ডে ভবিষ্যতে জীবনের জন্ম হতে পারে।

সেই সময় পৃথিবীর তাপমাত্রা এত বেশি ছিল যে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে লাভার নদী প্রবাহিত হতো। তখন পৃথিবীতে অক্সিজেনের অস্তিত্বও ছিল না। প্রচণ্ড তাপ এবং একের পর এক জ্বালামুখী উদ্গিরণ চলছিল।

বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবীর এই পর্যায়কে বলা হয় “হেডিয়ান ইরা (Hadean Era)” —এই সময়ে পৃথিবীর কেন্দ্রীয় লাভা ঠান্ডা হতে হতে এক সময় একটি শক্ত পাথুরে স্তর গঠন করে। জ্বালামুখী বিস্ফোরণ ও মহাজাগতিক পিণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে প্রচুর গ্যাস নির্গত হয়, এবং এই গ্যাসগুলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর চারপাশে জড়ো হয়ে তৈরি করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল।

অনেকে মনে করেন, যদি এই জ্বালামুখী বিস্ফোরণ এবং মহাজাগতিক সংঘর্ষ না হতো, তবে পৃথিবী অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে যেত। কিন্তু এই বিস্ফোরণ এবং সংঘর্ষই পৃথিবীতে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যোগাতে সাহায্য করে।

এরপর একসময় মহাশূন্য থেকে বরফের বলের মতো মেটেওরাইট (উল্কা) পৃথিবীর বুকে পতিত হতে থাকে। এই মেটেওর গুলি ছিল মূলত বরফে পূর্ণ যখন তারা পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়,তখন তাপমাত্রার কারণে সেই বরফ বাষ্পে পরিণত হয়ে চারপাশে মেঘ তৈরি করে।

এই মেঘগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন শুরু হয় বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টি। এই বৃষ্টির ফোঁটা পৃথিবীর উত্তপ্ত পৃষ্ঠে পড়তেই বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে ফিরে যেত। এভাবে কোটি কোটি বছর ধরে চলতে থাকে এই বাষ্প → মেঘ → বৃষ্টি চক্র।

এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকে এবং বিশাল মহাসাগরের জন্ম হয়। প্রতিনিয়ত আকাশে ঝলসে উঠছিল বজ্রবিদ্যুৎ, যার ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্যাসগুলোর সৃষ্টি হতে শুরু করল।

এই নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার ফলেই বায়ুমণ্ডলে এই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বাড়তে থাকে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, পৃথিবীতে পানি শুধুমাত্র মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিণ্ড দিয়ে আসেনি—বরং, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে নির্গত গ্যাসীয় অণুগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন যৌগ সৃষ্টি করতে থাকে।

যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর ঘন ঘন সৃষ্টি হতে থাকে, তখন এই দুটি একত্রে মিশে তৈরি করে জলীয় বাষ্প। এই জলীয় বাষ্প একত্রিত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং এর ফলেই পৃথিবীতে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। পৃথিবী যেন জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তখন মনে হচ্ছিল, এই পৃথিবী আর কোনো দুর্যোগে পড়বে না— এখন এখানে জীবনের সূচনা হবে।

কিন্তু পৃথিবীর আকার তখনও ছিল অনেক বড়। সমস্যা তখনও শেষ হয়নি। ঠিক এমন সময়, মঙ্গল গ্রহের মতো বিশাল এক গ্রহ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে এবং এক প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয় — যা পৃথিবীকে আবার ধুলা ও ধোঁয়ার কুয়াশায় পরিণত করে।

এই সংঘর্ষে পৃথিবীর উপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেই গ্রহ (থিয়া) এর উপরের স্তরও নষ্ট হয়ে যায়।পৃথিবী ও থিয়ার এই সংঘর্ষের ফলে প্রচুর ধুলা, গ্যাস ও কণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যার বেশিরভাগই পৃথিবীর মহাকর্ষে ফিরে আসে, কিন্তু কিছু অংশ পৃথিবীর চারপাশে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

এই কণাগুলো ধীরে ধীরে জমে একটি শীতল শক্ত পৃষ্ঠ তৈরি করে —এইভাবেই গঠিত হয় আমাদের চন্দ্রমা (মুন)। তখন চাঁদ ছিল পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি, এবং অনেক বড় দেখা যেত প্রায় ২০০ গুণ! তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী-চাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে, আর চাঁদের তলদেশেও শুরু হয় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ও মেটিওরের (উল্কা) বৃষ্টি।

এইসব বিস্ফোরণের ফলে চাঁদের চারপাশে ক্ষণস্থায়ী একটি বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়, কিন্তু চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি কম হওয়ায়, এটি ধরে রাখতে পারেনি। ফলে চাঁদে জীবন থাকার সম্ভাবনাও হারিয়ে যায়। উল্কার আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠে যে গর্তগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলোই এখন আমাদের চাঁদের গায়ে দাগ হিসেবে দেখা যায়।

এদিকে, পৃথিবী আবার ঠান্ডা হতে শুরু করে। অগ্ন্যুৎপাত, উল্কাবৃষ্টি এবং বৃষ্টি একসাথে চলতে থাকে, এবং পৃথিবী পুনরায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এমনকি সমুদ্রের গভীরেও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ শুরু হয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই আগ্নেয়গিরির কারণেই সমুদ্রের তলায় তৈরি হয় প্রথম অ্যামিনো অ্যাসিড।কিছু বিজ্ঞানীর মতে, হয়তো পৃথিবীতে জীবন শুরু হয়নি বরং তা মঙ্গল গ্রহে শুরু হয়েছিল এবং একটি উল্কার মাধ্যমে সেখান থেকে পৃথিবীতে এসেছে।

একজন বিজ্ঞানী ডেভিড মিলার একটি ল্যাব পরীক্ষায় দেখিয়েছেন যেখানে প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পুনরায় তৈরি করে, বজ্রবিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংমিশ্রণে একটি দ্রব পদার্থ পাওয়া যায় যা ছিল অ্যামিনো অ্যাসিডের সূচনা। এতে প্রমাণ হয়, জীবন রসায়ন থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল।

অন্যদিকে, অনেক বিজ্ঞানীর মতে মঙ্গল ও পৃথিবী দুটোই একই সময়ের অভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। পৃথিবী বড় হওয়ায় এটি বেশি সময় গরম ছিল, আর মঙ্গল আগে ঠান্ডা হয় ফলে হয়তো মঙ্গলে আগেই জীবনের সূচনা হয়েছিল। আর সেই জীবনের অনুপ্রাণিত কণা এক উল্কার মাধ্যমে পৃথিবীতে এসে পড়ে।

যখন এই মেটিওর পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, তখন পৃথিবীর পরিবেশ ছিল জীবনের জন্য উপযোগী ফলে সেখানে জন্ম নেয় প্রথম কোষ (cell)।

সমুদ্রের গভীরে গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেল মেমব্রেন বা কোষের আবরণ তৈরি করে। এর মধ্যেই গঠিত হয় DNA, যা কোষের কেন্দ্রীয় উপাদান। এইভাবেই এককোষী জীব থেকে ধাপে ধাপে তৈরি হয় বহুকোষী জীব।

বিজ্ঞানের ভাষায়, আমরা এবং গাছপালা একই উৎস থেকে উদ্ভূত। যেমন — মানুষের ও কলার DNA প্রায় ৫০% মিল রয়েছে। পৃথিবীর প্রাথমিক সময়কার বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ছিল খুবই কম, বরং মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ছিল বেশি, যার ফলে তখনকার বায়ুমণ্ডল ছিল অম্লীয় (acidic)। এই অম্লীয় বৃষ্টির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

এই সময়ের পর থেকে মহাবিশ্বের অস্থিরতা কমে যেতে থাকে, উল্কাপাতও অনেক কমে আসে বা বায়ুমণ্ডলের কারণে অনেক আগেই পুড়ে শেষ হয়ে যায়। ফলে পৃথিবী আরও ঠান্ডা হতে থাকে। এবং অবশেষে, আজ থেকে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন বছর আগে, পৃথিবীতে "হেম প্রাক্কাল যুগ (Hadean to Archaean transition)" শুরু হয় যেখানে প্রাণধারণের পরিবেশ তৈরি হতে থাকে।

যেদিকেই তাকানো যেত, শুধু বরফ আর বরফ সমগ্র পৃথিবী যেন বরফের মোটা চাদরে ঢাকা। এমনকি যেসব জায়গায় একসময় প্রাণ ছিল, সেখানেও বরফ জমে গিয়েছিল। এই বরফ প্রাণের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক কোটি বছর ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা -১৮°C ছিল। ফলে পুরো পৃথিবী একটি বরফের গোলকে পরিণত হয়।

প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) বছর আগে যখন পৃথিবীর অনেক অংশ বরফে ঢেকে ছিল, তখন হঠাৎ আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়ে উঠে। চারদিকে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ শুরু হয় এবং তা থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলে বাড়তে থাকে। এর ফলে সূর্যের আলো আটকে পড়ে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। বরফ গলতে শুরু করে এবং এক সময় সমুদ্র আবারও গঠিত হয়।

এই সময়, বরফের চাদরের নিচে থাকা কোষগুলি ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে বহু-কোষী প্রাণের জন্ম দেয়। সমুদ্রের গভীরে মাছ, ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী, এমনকি ছোট ছোট উদ্ভিদের জন্ম হয়। এই উদ্ভিদ সূর্যের আলো ও বায়ুমণ্ডলের CO₂ ব্যবহার করে ফটোসিন্থেসিস শুরু করে এবং অক্সিজেন নিঃসরণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে।

এভাবে সমুদ্র থেকে স্থলে উদ্ভিদ জন্ম নিতে থাকে এবং কিছু প্রাণী পানির বাইরে আসতে শুরু করে এদের বলা হয় উভচর (amphibians)। এদের মধ্যে জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিবর্তন ঘটে। প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে এই পরিবর্তনের ফলেই জন্ম নেয় ভয়ঙ্কর ডাইনোসর।

এই সময় বিশাল আকৃতির, মাংসাশী ও তৃণভোজী উভয় ধরনের ডাইনোসর পৃথিবী শাসন করতো। কেউ আকাশে উড়ত, কেউ সমুদ্রে সাঁতার কাটত। তবে বিপদ ছিল ছোট ছোট প্রাণীদের থেকেও বিষাক্ত মশা এতটাই মারাত্মক ছিল যে তারা একটি ডাইনোসরকেও হত্যা করতে পারত।

প্রায় ৬.৫ কোটি বছর আগে, একটি বিশাল উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আঘাত হানে, যার ফলে ডাইনোসর এবং পৃথিবীর ৭৫% প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর বেঁচে থাকা ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম হয় প্রাইমেটসদের, যাদের থেকে মানুষের উদ্ভব হয়।

প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পরিবেশের কারণে তারা বিভিন্ন রূপে বিবর্তিত হয়—গরিলা, চিম্পাঞ্জি ও অবশেষে মানুষে পরিণত হয়। আমাদের শরীরের অনেক অঙ্গ যা একসময় প্রয়োজনীয় ছিল, আজ তা আর কাজ করে না। যেমন—লেজ।

এই পৃথিবীর ইতিহাস, যা বিপদ, রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরা—তা থেকেই আমাদের জন্ম হয়েছে। তবুও আমরা আজও এই পৃথিবীর প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি। যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, তবে একদিন শুধু আমরাই নয়, পৃথিবীর সব জীবজন্তুই শেষ হয়ে যাবে।