অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune disease) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষ, কলা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। সাধারণত, ইমিউন সিস্টেম শরীরকে জীবাণু, ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এটি নিজের শরীরকেই শত্রু মনে করে এবং আক্রমণ শুরু করে, তখন এই ধরনের রোগ দেখা দেয়।
☞কিভাবে কাজ করে?
ইমিউন সিস্টেমের প্রধান কাজ হলো শরীরের "নিজস্ব" কোষ এবং "বহিরাগত" বা ক্ষতিকর কোষের মধ্যে পার্থক্য করা। অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে, ইমিউন সিস্টেম অ্যান্টিবডি (antibodies) তৈরি করে যা সুস্থ কোষকে ধ্বংস করতে শুরু করে।
➤কিছু সাধারণ অটোইমিউন রোগ:
* রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis): এই রোগে ইমিউন সিস্টেম জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিকে আক্রমণ করে, যার ফলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং অস্থিসন্ধি বিকৃতি ঘটে।
* সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমেটোসাস (Systemic Lupus Erythematosus - SLE): সংক্ষেপে "লুপাস" নামে পরিচিত। এটি একটি জটিল রোগ যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন- ত্বক, জয়েন্ট, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং রক্তকণিকাকে আক্রান্ত করতে পারে।
* ডায়াবেটিস টাইপ-১ (Type 1 Diabetes): এই রোগে ইমিউন সিস্টেম অগ্ন্যাশয়ের (pancreas) ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে, যার ফলে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
* সোরিয়াসিস (Psoriasis): এটি ত্বকের একটি রোগ, যেখানে ইমিউন সিস্টেম ত্বকের কোষ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অতিরিক্ত দ্রুত করে তোলে, যার ফলে ত্বকে লাল ও মোটা স্তর তৈরি হয়।
* হাশিমোটোস থাইরয়েডাইটিস (Hashimoto's Thyroiditis): এই রোগে ইমিউন সিস্টেম থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে, যা হাইপোথাইরয়েডিজম (hypothyroidism) সৃষ্টি করে।
* ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's Disease): এটি পরিপাকতন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ।
➤কারণ:
অটোইমিউন রোগের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয়কে এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়, যেমন-
* জেনেটিক্স: কিছু রোগের ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব দেখা যায়।
* পরিবেশগত কারণ: কিছু রাসায়নিক পদার্থ বা সংক্রমণের কারণেও রোগ শুরু হতে পারে।
* হরমোনাল কারণ: নারীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়, তাই হরমোনকেও একটি কারণ হিসেবে ধরা হয়।
☞চিকিৎসা:
অটোইমিউন রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই, তবে চিকিৎসা দিয়ে এর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। সাধারণত, স্টেরয়েড, ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট (immunosuppressant) এবং অন্যান্য কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয় ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত করার জন্য। জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কিছু থেরাপিও অনেক সময় সাহায্য করে।

No comments:
Post a Comment