মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিসঅর্ডারস এবং রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ
বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি হলেও ‘হাম’ বা মিজলস (Measles) এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল একটি সাধারণ জ্বর বা গায়ের র্যাশ নয়; বরং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হাম কেন হয় এবং কীভাবে ছড়ায়?
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে মিশে যায় এবং সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পর পর্যন্ত সেই ঘরের বাতাসে হামের ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে।
লক্ষণগুলো চিনে রাখা জরুরি
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতোই মনে হতে পারে, যা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে:
- তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে কাশির প্রবণতা।
- নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
- জ্বর শুরুর ৩-৪ দিন পর শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেওয়া (সাধারণত মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে)।
- মুখের ভেতরে ছোট সাদাটে দাগ (কপলিক স্পট) দেখা দেওয়া।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জটিলতা
হামের কারণে শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়, ফলে অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন:
১. নিউমোনিয়া: হামের কারণে ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারে, যা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
২. ডায়রিয়া ও পুষ্টিহীনতা: দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ফলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis): এটি বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৪. চোখের সমস্যা: সঠিক চিকিৎসা না পেলে শিশু অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
প্রতিকার ও প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ পথ
হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান (Vaccination)। সরকারের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর (MR) টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা হাম ও রুবেলা উভয় রোগ থেকেই সুরক্ষা দেয়।
আক্রান্ত হলে করণীয়:
- আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি খাওয়াতে হবে।
- ভিটামিন-এ ক্যাপসুল হামের জটিলতা কমাতে দারুণ কাজ করে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা গ্রহণ করা উচিত।
- জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
- অন্য শিশুদের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
শেষ কথা
হাম নির্মূল করা সম্ভব যদি প্রতিটি অভিভাবক সচেতন হন এবং সময়মতো শিশুকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করেন। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই পারে একটি শিশুকে সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।

No comments:
Post a Comment