October 13, 2024

পায়ের গোড়ালি ব্যথা | ঘরোয়া ভাবে দূর করার উপায় | Plantar Fasciitis



Plantar fasciitis হলো পায়ের তলায় থাকা প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াতে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ। এটি প্রধানত পা এবং গোড়ালির নিচের অংশে ব্যথার কারণ হয়ে থাকে। এটি সাধারণত অতিরিক্ত হাঁটা, দৌড়ানো, ভুল জুতা পরা, বা পায়ের অঙ্গাণুর অস্বাভাবিক অবস্থানের জন্য হয়ে থাকে।  

লক্ষণ:
- পায়ের তলায় বিশেষত সকালে বা দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার সময় তীব্র ব্যথা।
- পায়ের আর্চে বা গোড়ালির নিচে চাপ প্রয়োগ করলে ব্যথা অনুভব হওয়া।
- কাজ বা ব্যায়ামের পর ব্যথার অনুভূতি বাড়া। 

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা:
১. বিশ্রাম: পায়ের উপর চাপ কমাতে এবং গোড়ালির ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

২. বরফের সেক: দিনে দুই-তিনবার ১৫-২০ মিনিট বরফের সেক গোড়ালিতে দিন যাতে প্রদাহ কমে। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে। 

৩. স্ট্রেচিং: পায়ের আর্চ এবং গোড়ালির পেশীগুলো স্ট্রেচ করা গুরুত্বপূর্ণ , এটি পেশীকে নমনীয় করতে সাহায্য করবে। 

৪. উপযুক্ত জুতা পরিধান : সঠিক ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন। উচ্চ হিল বা অস্বস্তিকর জুতা এড়িয়ে চলুন। 

৫. ফিজিওথেরাপি: পেশী শক্তিশালী করা এবং স্ট্রেচিং শেখার জন্য ফিজিওথেরাপি নিতে পারেন। 

৬. ওষুধ: যদি ব্যথা বেশি হয়, তাহলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। 

৭. ইনজেকশন: অবস্থার গুরুতর হলে, চিকিৎসক স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে পারেন। 

৮. সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে, যদি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর না হয়, তবে সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে। 

সতর্কতা:
যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যা আপনাকে এই ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

1. চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে সর্বদা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। সঠিক ডোজ এবং চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।

2. অতিরিক্ত ব্যায়াম পরিহার: ব্যথা অনুভব হলে অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেন থেকে বিরত থাকুন। এ ক্ষেত্রে শক্তিশালীকরণ এবং স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ ধীরে ধীরে করুন। 

3. জুতার নির্বাচন: সঠিক জুতা পরিধান করা নিশ্চিত করুন। জুতা যদি আরামদায়ক না হয় বা যথাযথ সাপোর্ট না দেয়, তাহলে তা পরিবর্তন করুন। 

4. অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ: এই ওষুধগুলি সঠিক ডোজে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার করুন, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। 

5. ইনজেকশন: কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী করান এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। 

6. লক্ষণ পর্যবেক্ষণ: যদি ব্যথা বৃদ্ধি পায় বা নতুন লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 

7. আরাম এবং বিশ্রাম: পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পায়ে অতিরিক্ত চাপ না দিতে চেষ্টা করুন। 

8. ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপি করার সময় একজন প্রফেশনাল থেরাপিস্টের নির্দেশিকা মেনে চলুন।

এটি মনে রাখবেন যে প্রতিটি ব্যক্তির শরীর আলাদা, তাই সর্বদা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।


No comments:

Post a Comment