অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অন্যতম আলোচিত বিষয়। শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতে প্রয়োগ করা নির্দিষ্ট ওষুধের বিপক্ষে যুদ্ধ করে ওই ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করাকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলে। যদিও আগে ওই নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে সেই ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এ অবস্থায় ওই নির্দিষ্ট রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা থাকে না। এর ফলে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতে অভিযোজিত হয়ে যায় বলে এরা নিজেদের স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে উঠতে এবং বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে মানুষ বা পশুর শরীরের রোগ বিস্তার লাভ করে।
যেভাবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়
আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। অপ্রয়োজনে অথবা স্বল্পমাত্রায় অথবা অনিয়মিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীরের ক্ষতিকর জীবাণু তার নিজের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে। তখন সেই অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস বা তার বংশবিস্তার রোধ করতে পারে না। ভয়ের কারণ হলো, ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বিস্তার করে, ফলে অতি অল্প সময়ে একটি রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া লাখ লাখ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থার জন্য প্রাকৃতিক ছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন:
- অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা ও সময় না মানা।
- এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার।
- সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।
- অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করে রোগের উপসর্গ কমে গেলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া।
- রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন।
- প্রয়োজন ছাড়া দুই বা ততোধিক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার।
- পশুপাখির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার।
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সম্পর্কে কার্যকরী গাইডলাইন না থাকা।
আমাদের করণীয়
অ্যান্টিবায়োটিকের উদ্ভাবন হয়েছে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজনে। কিন্তু ভীতিকর কথা হচ্ছে, কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে এখন স্থবিরতা বিরাজ করছে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত যাতে ব্যাকটেরিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে, এ জন্য সবাইকে সাবধানতার সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
- নিবন্ধনকৃত চিকিৎসকের লিখিত প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না—মর্মে বিজ্ঞ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক মাত্রা ও নিয়ম অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।
- যদি প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কার্যকরী হয়, তাহলে সেটা দিয়েই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
- চিকিৎসক যত দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেবেন, তত দিনই সেবন করতে হবে। কোনোভাবেই কম বা বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে না।
- গবাদিপশু ও মুরগিতে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
No comments:
Post a Comment