October 13, 2024

পান্তা ভাতে কি কি উপাদান রয়েছে? এবং ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগিদের জন্য কেন উপকারী!!

পান্তা ভাত খাওয়ার প্রচলন আমাদের দেশে বহুকাল ধরেই। সাধারণত আগের দিন রাতের বেঁচে যাওয়া ভাতে পানি দিয়ে পান্তা ভাত তৈরি করা হয়। একটি পাত্রের মধ্যে পরিষ্কার পানি ও ভাত একসঙ্গে মিশিয়ে সেটি ঢেকে রাখা হয়। 

এভাবে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে সারা রাত রেখে দেওয়ার ফলে পানি ও ভাতের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। এসময় পানির নিচে থাকা ভাত বাতাসের অর্থাৎ অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে পারে না।পানির কারণে ভাতের এই ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং পাত্রের ভেতরে এনারোবিক ফারমেন্টেশনের ঘটনা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় ভাতের মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট ভেঙে যায়

পান্তা ভাতের উপাদান
গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত আমরা যে ভাত খাই তার থেকে পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।পান্তা ভাতে আছে বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এগুলো হলো আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি -৬, ভিটামিন বি-১২ ইত্যাদি। 

পান্তা ভাতে সাধারণ চালের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যেমন ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে কিন্তু একই পরিমাণ পান্তা  ভাতে ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। যেখানে ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, সেখানে পান্তা ভাতে ৮৫ মিলিগ্রাম থাকে। এ ছাড়া পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের পরিমাণও বেশি পাওয়া যায়।

উপকারিতা
  • পান্তা ভাতে থাকা পুষ্টিকর পদার্থগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করে।
  • দেহের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে আয়রন যেটা পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • শরীরে হাড়গুলোকে শক্ত রাখে ক্যালসিয়াম। শরীরে নিঃসৃত এনজাইমকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে ম্যাগনেসিয়াম।
  • পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-সিটোস্টেরল, কেম্পেস্টেরোলের মতো মেটাবলাইটস রয়েছে যা শরীরকে প্রদাহ বা যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। এসব কোলেস্টোরেল কমাতেও এসব সাহায্য করে।
  • এছাড়াও পান্তা ভাতে রয়েছে আইসোরহ্যামনেটিন-সেভেন-গ্লুকোসাইড ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো মেটাবলাইটস যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • পান্তা ভাতে ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাধারণত দই-এর মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।
  • এছাড়াও গরমের সময় পান্তা ভাত শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।

গুলেন বারে সিনড্রোম বা জিবিএস (GBS) রোগীদের জন্য হিপ ও পেলভিক গার্ডল শক্তিশালীকরণ এক্সারসাইজ ।

 


গুলেন ব্যারি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে জিবিএস (GBS) নামটি অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও রোগটির প্রাদুর্ভাব একেবারে কম নয়। এটা এমন একটি মারাত্বক রোগ যা মাংশপেশীকে দুর্বল করে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে নড়াচড়ার সামর্থ্যও হারিয়ে যেতে পারে। প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সেরে ওঠে এবং ৫-১০ শতাংশ রোগীর কিছু না কিছু শারীরিক দুর্বলতা স্থায়ীভাবে থেকে যায়। যেকোনো বয়সেই জিবিএস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ৩০-৩৫ বছর বয়সী এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
GBS রোগটিকে খুব সহজে ডায়াগনোসিস করা যায় না। কারণ এই রোগের উপসর্গ অন্য নিওরোলজিক্যাল রোগের সাথে মিলে যায়। চিকিৎসক রোগের হিস্ট্রি নেন এবং ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন করেন। তারপর কারও কারও ক্ষেত্রে স্পাইনাল ট্যাপ (লাম্বার পাংচার), ইলেক্ট্রো মায়োগ্রাফি, নার্ভ কনডাকশন স্টাডিজ এর মাধ্যমে রোগকে ডায়াগনোসিস করেন।

  • প্লাজমা এক্সচেঞ্জ
  • ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেরাপি
  • পা দুটো সোজা করে রাখুন এবং আস্তে আস্তে এক পা উপরে তুলুন। কিছু সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর আস্তে আস্তে নামিয়ে আনুন।
  • হিপ ব্রিজ: পিঠের উপর শুয়ে পড়ুন,হাঁটু  বাঁকা করে এবং পা মেঝেতে রাখুন। তারপর ধীরে ধীরে আপনার হিপ উপরে তুলুন এবং কিছু সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর আস্তে আস্তে নামিয়ে আনুন।
  • সাইড লেগ রাইজ: এক পাশে শুয়ে পড়ুন। উপরের পা সোজা করে তুলুন এবং কিছু সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর আস্তে আস্তে নামিয়ে আনুন। অন্য পাশে পুনরাবৃত্তি করুন।
  • পেলভিক টিল্ট: পিঠের উপর শুয়ে পড়ুন এবং হাঁটু বাঁকা করে রাখুন। আপনার পেটে টান দিন এবং আপনার পেন্টের নিচের অংশ মেঝেতে চেপে ধরুন। কিছু সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ছেড়ে দিন।
  • সিট-টু-স্ট্যান্ড: একটি চেয়ারে বসুন এবং আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ান। কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকুন এবং তারপর আবার বসুন।

বিভিন্ন ধরনের রিসার্চ থেকে জানা যায়, রোগীরা ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে যান। কারও কারও ক্ষেত্রে এই রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে তিন বছরের মতো সময় লাগে। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। হাসপাতালে রোগীর অবস্থা ও ধরন দেখে চিকিৎসক দুই ধরনের চিকিৎসা চালু করেন।

জিবিএস রোগীদের জন্য হিপ ও পেলভিক গার্ডল শক্তিশালীকরণ ব্যায়াম

*ব্যায়াম শুরু করার আগে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি*

ঘাড় এবং কোমর ব্যথার অপারেশন বিহীন চিকিৎসা

The basis of the rehabilitation system is the polysegmental biomechanical correction of the spine. It is aimed at releasing the functional blockages of the spinal segments and resumption of normal mobility of joints of the spine.
Biomechanical correction of the spine is carried out consecutively in lumbar, thoracic and cervical regions. Lumbar spine correction includes simultaneous mobilization of all blocked movement segments using our method of “backward rotation”.
Correction of the thoracic blockages is performed starting from upper regions to lower using special impulse techniques. Corrections of the cervical spine are performed using movement with complex trajectory to simultaneously influence all blocked segments.

মুখ বাঁকা রোগের কারণ এবং চিকিৎসা | Bell's Palsy

 


মুখ বাঁকা রোগ, যা সাধারণত ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা বেলস প্যারালাইসিস নামে পরিচিত, মুখের স্নায়ুর ক্ষতির কারণে সৃষ্ট হয়, যার ফলে, রোগী মুখ নাড়াচাড়া করে খেতে পারে না বা কথা প্রকাশ করতে পারে নাফেসিয়াল প্যারালাইসি হঠাৎ হতে পারে আবার ধীরে ধীরেও হতে পারে।

ফেসিয়াল প্যারালাইসিসের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • স্নায়ুর সংক্রমণ: ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে হেপাতাইটিস, সাইটোমেগালোভাইরাসের কারণে মুখের স্নায়ুতে প্রদাহ হতে পারে।
  • মাথায় টিউমার
  • ঘাড়ে বা গলায় টিউমার
  • স্ট্রোক
  • মানসিক আঘাত বা মানসিক চাপ

এটি অন্যান্য কারণেও ঘটতে পারে; যেমন;

  • মুখে আঘাত লাগা
  • লাইম রোগ সংক্রমণ (পোকার দ্বারা মানুষের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াগত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে)
  • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
  • ভাস্কুলাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগগুলি
  • ভুলভাবে করা দাঁতের চিকিৎসা যা কিছু মুখের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে
  • বিরল ক্ষেত্রে, জন্মের সময় শিশুগুলিও মুখের প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হতে পারে (যা পরবর্তীকালে সেরে যায়)

চিকিৎসা:

  • ফিজিওথেরাপি: মুখের পেশী এবং স্নায়ুগুলির কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
  • ওষুধ: অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মাসাজ: মুখ এবং গলার পেশীগুলির উপর মাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন উন্নত হয় এবং পেশীগুলির কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হয়।
  • মানসিক সমর্থন: মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কাউন্সেলিং বা সাপোর্ট গ্রুপের সাহায্য নেওয়া।

বিশেষ দৃষ্টি:
সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে সাধারণত রোগী দ্রুত সেরে ওঠে।



অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কি এবং এর কারণ !

 


অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অন্যতম আলোচিত বিষয়। শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতে প্রয়োগ করা নির্দিষ্ট ওষুধের বিপক্ষে যুদ্ধ করে ওই ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করাকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলে। যদিও আগে ওই নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে সেই ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এ অবস্থায় ওই নির্দিষ্ট রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা থাকে না। এর ফলে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতে অভিযোজিত হয়ে যায় বলে এরা নিজেদের স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে উঠতে এবং বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে মানুষ বা পশুর শরীরের রোগ বিস্তার লাভ করে।

যেভাবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়

আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। অপ্রয়োজনে অথবা স্বল্পমাত্রায় অথবা অনিয়মিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীরের ক্ষতিকর জীবাণু তার নিজের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে। তখন সেই অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস বা তার বংশবিস্তার রোধ করতে পারে না। ভয়ের কারণ হলো, ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বিস্তার করে, ফলে অতি অল্প সময়ে একটি রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া লাখ লাখ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে। 

এ অবস্থার জন্য প্রাকৃতিক ছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন:

  • অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা ও সময় না মানা।
  • এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার।
  • সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করে রোগের উপসর্গ কমে গেলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া।
  • রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন।
  • প্রয়োজন ছাড়া দুই বা ততোধিক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার।
  • পশুপাখির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার।
  • অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সম্পর্কে কার্যকরী গাইডলাইন না থাকা।

আমাদের করণীয়
অ্যান্টিবায়োটিকের উদ্ভাবন হয়েছে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজনে। কিন্তু ভীতিকর কথা হচ্ছে, কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে এখন স্থবিরতা বিরাজ করছে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত যাতে ব্যাকটেরিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে, এ জন্য সবাইকে সাবধানতার সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।

  • নিবন্ধনকৃত চিকিৎসকের লিখিত প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না—মর্মে বিজ্ঞ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক মাত্রা ও নিয়ম অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।
  • যদি প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কার্যকরী হয়, তাহলে সেটা দিয়েই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
  • চিকিৎসক যত দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেবেন, তত দিনই সেবন করতে হবে। কোনোভাবেই কম বা বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে না।
  • গবাদিপশু ও মুরগিতে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ভিটামিন ডি-এর উৎস,প্রকারভেদ ,ঘাটতি হলে স্বাস্থ্য সমস্যা,গ্রহণ এর মাত্রা।

ভিটামিন ডি একটি চর্বিজাতীয় ভিটামিন যা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি প্রাপ্তির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলো, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যারা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পান না, যেমন কিছু শহুরে বাসিন্দা কারণ ত্বকে ভিটামিন-ডি উৎপন্ন করতে সূর্যের আলো প্রয়োজন।
যেমন:
  • এটি শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা শক্তিশালী হাড় এবং দাঁতের জন্য অপরিহার্য।
  • ভিটামিন ডি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে যথেষ্ট ভিটামিন ডি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • এটি পেশী শক্তি এবং কার্যকারিতায় ভূমিকা পালন করে, যা সামগ্রিক মোবিলিটি এবং শারীরিক স্বাস্থ্য জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  উৎস
  • সূর্যের আলো (UVB রশ্মি
  • মাছ (স্যামন, ম্যাকেরেল)
  • ডিমের কুসুম
  • ফোর্টিফাইড খাবার (দুধ, সয়া মিল্ক)
ভিটামিন ডি-এর প্রকারভেদ
  • ভিটামিন ডি2 (এরগোক্যালসিফেরল): এটি সাধারণত উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং কিছু ফোর্টিফাইড খাদ্যে যুক্ত করা হয়।
  • ভিটামিন ডি3 (কলিক্যালসিফেরল): এটি প্রাণীজ উৎস থেকে আসে, যেমন মাছ এবং ডিম, এবং সূর্যের আলোতে ত্বক দ্বারা উৎপন্ন হয়। ডি3 সাধারণত শরীরের জন্য আরও কার্যকরী।
ভিটামিন ডি-এর পরিমাপ: 
ভিটামিন ডি-এর স্তর পরিমাপের জন্য রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে 25-hydroxyvitamin D স্তরের পরিমাপ করা হয়। সাধারণত, 20-50 ng/mL স্তরকে স্বাভাবিক ধরা হয়। 20 ng/mL-এর নিচে থাকলে ঘাটতি এবং 50 ng/mL-এর উপরে থাকলে উচ্চ মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভিটামিন ডি ঘাটতি হলে নিম্নলিখিত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে:
  • শিশুদের রিকেট (হাড়ের নরম হওয়া)
  • ক্রমাগত ক্লান্তি এবং অসুস্থতা অনুভব করা।
  • বিশেষ করে পিঠে এবং পা এলাকায় হাড়ের ব্যথা অনুভব করা।
  • দৈনন্দিন কার্যক্রমে অসুবিধা বা পেশীর দুর্বলতা।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওমালেশিয়া (হাড়ের ব্যথা এবং পেশীর দুর্বলতা)
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কম স্তরের ভিটামিন ডি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে (যেমন হৃদরোগ এবং কিছু ক্যান্সার)।

প্রস্তাবিত গ্রহণ এর মাত্রা

ভিটামিন ডি-এর জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত গাইডলাইনগুলি দেওয়া হয়:

  • শিশুর জন্য: 400 IU (১০ মাইক্রোগ্রাম) প্রতিদিন।
  • বয়স ১-৭ বছরের শিশুদের জন্য: 600 IU (১৫ মাইক্রোগ্রাম) প্রতিদিন।
  • বয়স ৮-৭০ বছরের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: 600 IU (১৫ মাইক্রোগ্রাম) প্রতিদিন।
  • বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে: 800 IU (২০ মাইক্রোগ্রাম) প্রতিদিন।
অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 

এর মধ্যে কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো:
  • হাইপারক্যালসেমিয়া: রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে এটি বমি, পেট খারাপ, দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
  • কিডনি সমস্যা: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি কিডনিতে পাথর বা অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।হৃৎপিণ্ডের সমস্যা: ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • মাংসপেশীর দুর্বলতা: অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভিটামিন ডি মাংসপেশীর দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।এ কারণে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং সঠিক ডোজ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

ফারাক্কা বাঁধ এবং বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি | ফারাক্কা লংমার্চ -১৯৭৬

 


ফারাক্কা বাঁধ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁধ। 1975 সালে এটি নির্মাণ করা হয়, এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে জল সরবরাহ বাড়ানো এবং গঙ্গা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা।

বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি:
  • জলবায়ু পরিবর্তন: ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে গঙ্গা নদীর প্রবাহ কমেছে, যার ফলে নদী ভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
  • মৎস্য সম্পদ: বাঁধটি মৎস্য সম্পদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় মাছের প্রজনন এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
  • কৃষিতে প্রভাব: বাংলাদেশে কৃষি নির্ভরশীলতাও কমেছে, কারণ বাঁধের কারণে অন্যান্য সময়ে যেভাবে পানি পাওয়া যেত, তা এখন আর পাওয়া যায় না। ফলে ফসলের উৎপাদন এবং কৃষকদের জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
  • পানির মান: পানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলির জল মানও কমে গেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
  • সামাজিক সমস্যা: এসব কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অস্থিরতা এবং আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, যা সামাজিক সমস্যা তৈরি করেছে।
ফারাক্কা লংমার্চ ১৯৭৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ফারাকা বাঁধের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ আন্দোলন। এই আন্দোলনটি গঙ্গা নদীর জল বণ্টনের সমস্যা এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত সামাজিক প্রভাবগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশে গঙ্গার প্রবাহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে জল সংকট সৃষ্টি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ, বিশেষত কৃষক এবং মৎস্যজীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে হাজার হাজার মানুষ ফারাক্কা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যেংমার্চ শুরু করেন।

এই লংমার্চের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। আন্দোলনটি দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল এবং নদী, পরিবেশ ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু কর।

ফারাক্কা লংমার্চ ১৯৭৬ সালের এই ঘটনা আজও ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিবেচিত হয়।

ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, এবং সামাজিক কাঠামোর উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টেলিপ্যাথি যেভাবে বদলে দিবে আগামীর বিশ্ব | Neuralink Brain Implant

 


নিউরালিংক একটি নিউরোটেকনোলজি কোম্পানি যেটির প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক। এর উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) তৈরি করা যা মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি কম্পিউটারের সাথে সংযোগ করতে সক্ষম করে। এখানে নিউরালিংক এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে কিছু মূল দিক উল্লেখ করা হলো:

মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) প্রযুক্তি
  • উদ্দেশ্য: নিউরালিংকের প্রধান লক্ষ্য হলো মস্তিষ্ক এবং বাহ্যিক ডিভাইজের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা, বিশেষ করে নিউরোলজিকাল অবস্থার আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য।
  • কার্যকারিতা: ডিভাইসটি মস্তিষ্কের সংকেত পড়া ও লেখা সক্ষম, যা চিন্তা দ্বারা কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন
  • নিউরোলজিকাল অসুখের চিকিৎসা: নিউরালিংক আশা করে যে, এর প্রযুক্তি পারকিনসনস রোগ, এপিলেপসি এবং মেরুদণ্ডের আঘাতের মতো অবস্থার চিকিৎসায় সহায়ক হবে।
  • কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার: এটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পা বা যোগাযোগ ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার সম্ভাবনা রাখে।
উন্নত কগনিটিভ ফাংশন
  • মেমোরি ও শেখার উন্নতি: প্রযুক্তিটি তাত্ত্বিকভাবে কগনিটিভ ফাংশন উন্নত করতে পারে, যা স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত শেখার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে।
  • অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও AI সংযোগ: নিউরালিংক AI-এর সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ সাধন করতে সহায়তা করতে পারে, যা মানুষের জন্য তথ্য বা কম্পিউটেশনাল শক্তি তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
  • গোপনীয়তা উদ্বেগ: চিন্তা পড়ার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে, বিশেষ করে গোপনীয়তা এবং সম্মতি সম্পর্কে।
  • অসাম্য: এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়তো শুধুমাত্র কিছু অর্থনৈতিক শ্রেণীর মানুষের জন্য সীমিত থাকবে, যা সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ফারাক বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
  • টেলিপ্যাথি এবং যোগাযোগ: একটি আরো ভবিষ্যত-দৃষ্টিতে, উন্নত প্রযুক্তি এমন যোগাযোগের পদ্ধতি তৈরি করতে পারে যা पारম্পরিক ভাষাকে অতিক্রম করবে, যা মানুষের মধ‍্যে আন্তঃক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারে।
  • মানব-মেশিন সমবায়: দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি হল এমন একটি ভবিষ্যত যেখানে মানুষ ও যন্ত্র একসাথে কাজ করবে, মানব ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করবে।
নিউরালিংক একটি বিপ্লবী প্রযুক্তির দিকনির্দেশক যা নিউরোসায়েন্স এবং কম্পিউটার সায়েন্সকে মিশ্রিত করে। সম্ভাব্য লাভ অনেক হতে পারে, কিন্তু এটি বিকাশের সাথে সাথে নৈতিক এবং সামাজিক প্রভাবগুলির ওপর সাবধানতার সাথে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউরালিংকের প্রযুক্তি মানব জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে, কিন্তু এই যাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে গোপনীয়তা, সমতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। সম্ভাব্য সুবিধাগুলির পাশাপাশি, প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোও মোকাবেলা করতে হবে।

নিউরালিংক এবং এর মতো অন্যান্য প্রযুক্তিগুলির উন্নয়ন আমাদের সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভই নিয়ে আসছে।

পৃথিবীর মোট কতোভাগ পানি | এর কতো % আমরা ব্যবহার করি

 


পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৭১% অংশই পানি দ্বারা আবৃত। এর মধ্যে সমুদ্র, নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ের পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই, আমাদের গ্রহের বেশিরভাগ অংশই পানি।

পানির ব্যবহারের জন্য সাধারণ কিছু পরিসংখ্যান :
উপলব্ধ মিষ্টি পানি: পৃথিবীর মোট পানির ২.৫% হল মিষ্টি পানি। এর মধ্যে ৩১% ভূগর্ভস্থ পানি, ৬৮% বরফ এবং ১% জলাশয়ে রয়েছে।

ব্যবহারযোগ্য পানি: এই ২.৫% মিষ্টি পানির মধ্যে মাত্র ০.৭% প্রাকৃতিক উৎস থেকে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি: পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত পানি প্রায় ৭০% কৃষির জন্য ব্যবহৃত হয়, যা খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।

শিল্প: শিল্প খাতে পানি ব্যবহারের হার প্রায় ২০%।

গৃহস্থালী: গৃহস্থালী কাজে পানি ব্যবহারের হার সাধারণত ১০% এর আশেপাশে।

পানির সঞ্চয়: বর্তমানে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানি সংকট একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, সঠিক পানির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

পানির সঞ্চয়ের উপায়:


- দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহারে সচেতনতা যেমন, ব্রাশ করার সময় কল বন্ধ রাখা, বা গোসল করার সময় টব ব্যবহার করা।

- বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করা যায়।

- পানি দূষণের বিরুদ্ধে সচেতন থাকা।

- পানি পুনঃব্যবহার: যেমন, ধোয়া পরিস্কার করার পর পানি পুনরায় ব্যবহার করা।


এইভাবে, আমরা পানি ব্যবহারের হার কমিয়ে এবং সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।

সেরিব্রাল পালসি রোগ কী এবং কতো প্রকার | উপসর্গ এবং চিকিৎসা

 


সেরিব্রাল পালসি (Cerebral Palsy) হলো একটি নিউরোলজিক্যাল অবস্থান যা সাধারণত শিশুর জন্মের সময় বা জন্মের পরে মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে ঘটে। এটি শিশুদের মোটর দক্ষতা, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং পেশির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে। সেরিব্রাল পালসি রোগের কারণে শিশুদের চলাফেরা, কথা বলা এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সমস্যা হতে পারে।
1. স্পাস্টিক সেরিব্রাল পালসি (Spastic Cerebral Palsy): এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকার। এর মধ্যে পেশীগুলি কঠোর হয়ে যায় এবং চলাচলে অসুবিধা হয়। এটি আবার বিভিন্ন উপ-প্রকারে বিভক্ত:
- স্পাস্টিক ডিপ্লেজিয়া (Spastic Diplegia): সাধারণত দুই পায়ে প্রভাব পড়ে।
- স্পাস্টিক হেমিপ্লেজিয়া (Spastic Hemiplegia): একপাশের শরীর প্রভাবিত হয়।
- স্পাস্টিক কড্রিপ্লেজিয়া (Spastic Quadriplegia): পুরো শরীর প্রভাবিত হয়।
2. অ্যাট্যাকটিক সেরিব্রাল পালসি (Ataxic Cerebral Palsy): এই ধরনের সেরিব্রাল পালসি সমন্বয় এবং ভারসাম্যহীনতায় সমস্যার সৃষ্টি করে। এটি চলাফেরায় অস্থিরতা এবং অসুস্থতা ঘটায়।
3. অ্যাথেটোইড সেরিব্রাল পালসি (Athetoid Cerebral Palsy): এই প্রকারের রোগীরা অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত আন্দোলন করে। সাধারণত শরীরের পেশীগুলি ছড়িয়ে পড়ে এবং সংকুচিত হয়।
4. মিক্সড সেরিব্রাল পালসি (Mixed Cerebral Palsy): এই ধরনের সেরিব্রাল পালসির মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, একজন শিশুর স্পাস্টিক এবং অ্যাথেটোইড উভয় সমস্যাই থাকতে পারে।
সেরিব্রাল পালসির বয়স ভিত্তিক উপসর্গগুলি বিভিন্ন স্তরে প্রকাশ পায়, এবং এগুলি শিশুর বয়সের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত, নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি বিভিন্ন বয়সে লক্ষ্য করা যায়:
১. নবজাতক (০-২ মাস)
- স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া না থাকা।
- কিছু ক্ষেত্রে পেশী অত্যধিক নরম বা কঠোর হতে পারে।
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গতিশীলতার অভাব।
২. শিশু (২-১২ মাস)
- বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে অক্ষমতা।
- একটি হাতের বা পায়ের ব্যবহার কম।
- সমন্বয় ও ভারসাম্যে সমস্যা (যেমন, বসার সময় পড়ে যাওয়া)।
৩. বাচ্চা (১-৩ বছর)
- চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা: যেমন, লাফানো, দৌড়ানোতে সমস্যা।
- স্পষ্ট কথা বলতে অক্ষমতা বা কথা বলা জটিলতা।
- সামাজিক ও মানসিক বিকাশে বিলম্ব।
৪. প্রাক-বাল্যকাল (৩-৬ বছর)
- চলাফেরায় আরও অসুবিধা: হাঁটার সময় গতি কম বা অদ্ভুতভাবে হাঁটা।
- সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার অভাব: যেমন, খেলনা জোড়া বা লেখার সময় সমস্যা।
- আচরণগত বা আবেগজনিত সমস্যা (যেমন, হতাশা বা উদ্বেগ)।
৫. বাল্যকাল (৬-১২ বছর)
- শরীরের কিছু অংশের শক্তি বা পেশী নিয়ন্ত্রণের অভাব।
- শারীরিক কার্যকলাপ এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণে সমস্যা।
- আরও কিছু সামাজিক বা শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
৬. কিশোরকাল (১২+ বছর)
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কঠোরতা বা দুর্বলতা বৃদ্ধি।
- উন্নত শারীরিক ও সামাজিক দক্ষতার অভাব।
- স্বনির্ভরতা অর্জনে সমস্যা।
প্রতি শিশুর ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি ভিন্ন হতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে এই শিশুদের জীবনযাত্রার গুণমান উন্নত করা সম্ভব।
1. চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রথমে একজন পেডিয়াট্রিশিয়ান বা নিউরোলজিস্টের কাছে যাওয়া হয়। তারা শিশুর ইতিহাস ও লক্ষণগুলি মূল্যায়ন করেন।

সেরিব্রাল পালসির প্রধান প্রকারভেদ:

নির্ণয় পদ্ধতি:

2. শারীরিক পরীক্ষা: শিশুর পেশী টনস, সমন্বয়, এবং গতিশীলতা পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গতিশীলতা ও প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করেন।

3.ইমেজিং: MRI বা CT স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের চিত্র তুলে দেখা হয় যে কোনো আঘাত বা বিকৃতি আছে কিনা।

4. অন্য পরীক্ষাসমূহ: কিছু ক্ষেত্রে EEG (ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি) বা অন্যান্য পরীক্ষাও করা হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

  • ফিজিওথেরাপি: পেশী শক্তি ও সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • অকুপেশনাল থেরাপি: দৈনন্দিন কাজগুলিতে সহায়তা করার জন্য এই থেরাপি কাজে লাগে।
  • স্পিচ থেরাপি: ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে স্পিচ থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
  • ঔষধ: পেশী টনাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে কিছু সময়ে ব্যথা বা টনাস কমানোর জন্য চিকিৎসক ঔষধ prescribe করতে পারেন।
  • সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে, সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন স্পাস্টিসিটি কমানোর জন্য।
  • সহায়ক যন্ত্র: হুইলচেয়ার, হাঁটার সহায়ক যন্ত্র ইত্যাদি ব্যবহার করা হতে পারে।
  • মনোসংযোগ এবং সমর্থন: পরিবার ও সমাজের সহায়তা মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বয়ে সেরিব্রাল পালসির চিকিৎসা করা হয় এবং প্রতিটি শিশুর জন্য পরিকল্পনা পৃথক হতে পারে। চিকিৎসা কার্যক্রমের সময় নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়।



অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) এর কারণ, উপসর্গ এবং চিকিৎসা।

 


অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) একটি বিরল এবং গুরুতর মানসিক ও স্নায়বিক ব্যাধি, যা সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের পর ঘটে। এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্রের প্রদাহজনিত অবস্থার একটি রূপ।
কারণ
ADEM সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের পরে ঘটে, যেমন:
- মেসলস (Measles)
- রুবেলা (Rubella)
- ভ্যারিসেলা (Chickenpox)
- ফ্লু (Influenza)
- সাইটোমেগালো ভাইরাস (CMV)
এছাড়াও, কখনও কখনও এটি টিকা দেওয়ার পরও দেখা যেতে পারে। এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদেরও আক্রান্ত হতে পারে।
উপসর্গ
ADEM এর কিছু সাধারণ উপসর্গ হলো:
- মাথাব্যথা
- জ্বর
- ক্লান্তি
- শারীরিক দুর্বলতা
- বিভ্রান্তি বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন
- চলনশক্তির সমস্যা (যেমন পা বা হাত অবশ হয়ে যাওয়া)
- দৃষ্টি সমস্যা
- কাঁপুনি বা খিঁচুনি

চিকিৎসা
ADEM এর চিকিৎসায় সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:
- স্টেরয়েড: প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়।
- ইমিউনোগ্লোবুলিন: এটি শরীরে প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্লাজমা পরিবর্তন: গুরুতর ক্ষেত্রে প্লাজমা এক্সচেঞ্জও করানো হতে পারে

স্টিফেন হকিং এর সংক্ষিপ্ত জীবনী | তত্ত্ব এবং আবিষ্কার |


স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) ছিলেন একজন ব্রিটিশ থিওরেটিক্যাল ফিজিসিস্ট, কসমোলজিস্ট এবং লেখক। তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার
হকিং তার প্রাথমিক শিক্ষা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সেখানে তিনি "ব্ল্যাক হোল" এবং "মহাবিশ্বের উৎপত্তি" বিষয়ক গবেষণা করতে থাকেন।

অসুস্থতা
হকিং ২১ বছর বয়সে এমিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হন, যা তাকে ধীরে ধীরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে। কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি তার গবেষণা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

মূল অবদান
স্টিফেন হকিং বিশেষ করে তার "হকিং রেডিয়েশন" তত্ত্বের জন্য পরিচিত, যা ব্ল্যাক হোল থেকে রেডিয়েশন নির্গমনের ধারণা প্রদান করে। তার বই "A Brief History of Time" (১৯৮৮) বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্যক্তিগত জীবন
হকিং দুইবার বিয়ে করেন এবং তিনটি সন্তানের পিতা।

মৃত্যুর পর
স্টিফেন হকিং ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার কাজ এবং জীবন কাহিনী অনুপ্রেরণা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে একটি শ্রদ্ধার্ঘ হয়ে রয়েছেন।

উপসংহার
হকিং-এর জীবন ও কাজ আমাদের শেখায় যে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণ সম্ভব, এবং বিজ্ঞান ও মানবজীবনের জন্য তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।



পায়ের গোড়ালি ব্যথা | ঘরোয়া ভাবে দূর করার উপায় | Plantar Fasciitis



Plantar fasciitis হলো পায়ের তলায় থাকা প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াতে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ। এটি প্রধানত পা এবং গোড়ালির নিচের অংশে ব্যথার কারণ হয়ে থাকে। এটি সাধারণত অতিরিক্ত হাঁটা, দৌড়ানো, ভুল জুতা পরা, বা পায়ের অঙ্গাণুর অস্বাভাবিক অবস্থানের জন্য হয়ে থাকে।  

লক্ষণ:
- পায়ের তলায় বিশেষত সকালে বা দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার সময় তীব্র ব্যথা।
- পায়ের আর্চে বা গোড়ালির নিচে চাপ প্রয়োগ করলে ব্যথা অনুভব হওয়া।
- কাজ বা ব্যায়ামের পর ব্যথার অনুভূতি বাড়া। 

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা:
১. বিশ্রাম: পায়ের উপর চাপ কমাতে এবং গোড়ালির ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

২. বরফের সেক: দিনে দুই-তিনবার ১৫-২০ মিনিট বরফের সেক গোড়ালিতে দিন যাতে প্রদাহ কমে। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে। 

৩. স্ট্রেচিং: পায়ের আর্চ এবং গোড়ালির পেশীগুলো স্ট্রেচ করা গুরুত্বপূর্ণ , এটি পেশীকে নমনীয় করতে সাহায্য করবে। 

৪. উপযুক্ত জুতা পরিধান : সঠিক ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন। উচ্চ হিল বা অস্বস্তিকর জুতা এড়িয়ে চলুন। 

৫. ফিজিওথেরাপি: পেশী শক্তিশালী করা এবং স্ট্রেচিং শেখার জন্য ফিজিওথেরাপি নিতে পারেন। 

৬. ওষুধ: যদি ব্যথা বেশি হয়, তাহলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। 

৭. ইনজেকশন: অবস্থার গুরুতর হলে, চিকিৎসক স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে পারেন। 

৮. সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে, যদি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর না হয়, তবে সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে। 

সতর্কতা:
যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যা আপনাকে এই ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

1. চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে সর্বদা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। সঠিক ডোজ এবং চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।

2. অতিরিক্ত ব্যায়াম পরিহার: ব্যথা অনুভব হলে অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেন থেকে বিরত থাকুন। এ ক্ষেত্রে শক্তিশালীকরণ এবং স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ ধীরে ধীরে করুন। 

3. জুতার নির্বাচন: সঠিক জুতা পরিধান করা নিশ্চিত করুন। জুতা যদি আরামদায়ক না হয় বা যথাযথ সাপোর্ট না দেয়, তাহলে তা পরিবর্তন করুন। 

4. অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ: এই ওষুধগুলি সঠিক ডোজে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার করুন, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। 

5. ইনজেকশন: কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী করান এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। 

6. লক্ষণ পর্যবেক্ষণ: যদি ব্যথা বৃদ্ধি পায় বা নতুন লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 

7. আরাম এবং বিশ্রাম: পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পায়ে অতিরিক্ত চাপ না দিতে চেষ্টা করুন। 

8. ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপি করার সময় একজন প্রফেশনাল থেরাপিস্টের নির্দেশিকা মেনে চলুন।

এটি মনে রাখবেন যে প্রতিটি ব্যক্তির শরীর আলাদা, তাই সর্বদা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।


নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতোটুকু ?

নিকট আত্মীয়

  1. প্রথম পর্যায়ের রিলেটিভ: আপন চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে।
  1. দ্বিতীয় পর্যায়ের রিলেটিভ: বাবা বা মায়ের চাচাতো, মামাতো, খালাতো বা ফুফাতো ভাইবোনের সন্তানদের মধ্যে বিয়ে। এই দুই ধরনের কাজিন ম্যারেজের কারণে জন্ম নেওয়া সন্তানের মধ্যে নানা বংশগত রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। বিশেষত জিনবাহিত বংশধারার রোগগুলোর প্রকোপ এতে বাড়ে। অসুস্থ জিনগুলোর কার্বন কপি যখন মা-বাবা দুই বাহক থেকে সন্তানে বাহিত হয়, তখন তা তীব্র আকারে প্রকাশ পায়।

নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ হলে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, বিশেষত জিনগত রোগের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি হল
  • জিনগত অসুস্থতা: নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের ফলে একটি পরিবারে কিছু জিনগত অসুস্থতার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যেমন থালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়া, ও অন্যান্য hereditary diseases।
  • জন্মগত ত্রুটি: শিশুরা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের ফলে জন্মগত ত্রুটি বা শারীরিক বিকৃতি নিয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা: নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের ফলে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়া: জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়া মানে একটি পরিবারের মধ্যে জিনগত রোগের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এই কারণে, নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের সময় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করা এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।